শিব্বির আহমদ রানা: চট্টগ্রাম কক্সবাজারের বিকল্প সড়ক আনোয়ারা-বাঁশখালী প্রধানসড়কের সম্প্রসারণের কাজ চলছে কচ্চপ গতিতে। সড়কের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্পেটিং খুড়ে ফেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে যানচলাচল ও সাধারণ পথচারীদের দূর্ভোগের শেষ নেই। এমনিতেই ধুলাবালির নরক রাজ্যে পরিণত হয়েছে বাঁশখালী উপজেলার ব্যস্থতম সড়কটি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধুলাবালি উড়ে সাধারাণ যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলকে ব্যাঘাত করছে। সড়ক সংলগ্ন দোকানপাটের ব্যবসায়িদের বিভিন্ন মালামাল ধুলাবালিতে মিশে যাচ্ছে। দূষিত হচ্ছে খোলা খাবার গুলো, যার ফলে চরম দূর্ভোগে হতাশায় ব্যবসায়ীরা। সড়কের চলমান কাজ ২ মাসের কাছাকাছি সময় গড়ালেও কাজের নেই কোন গতি। প্রতিদিন হাজার হাজার স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী, সরকারী বেসরকারী চাকুরিজীবী সহ সর্বস্তরের লোকজনকে ধূলাবালি খেয়ে চলাচল করতে হয়। ফলে হাঁফানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়ার মতো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পথচারীগণ।
এদিকে সড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় সে পূর্বের ভোগান্তি রয়ে যাবে বলে সাধারণ জনগণের অভিযোগ। সড়কের দু’পাশে ১২ ফুট থেকে শুরু করে তা ১৮ ফুট করা হলেও যারা দখল করে আছে প্রধান সড়কের দু’পাশ তারা কিছুতেই বিন্দুমাত্র ছাড়তে নারাজ। অপরদিকে সওজ কতৃপক্ষ কিংবা দায়িত্বশীল কেউ এ উচ্ছেদে নিচ্ছে না কোন কার্যকর ভুমিকা। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের সাথে অধিকাংশ দোকানপাট এত বেশি লাগানো যে, দোকানের অধিকাংশ মালামাল রাস্তার উপর রাখে ব্যবসায়ীরা। তার উপর প্রধান সড়কের উপর ৮/১০টি বাজার বসে প্রতিনিয়ত। বর্তমান কাজ চলাকালীন সময়ে যদি এসব উচ্ছেদ করা হয় তাহলে ভোগান্তি কমবে সর্বক্ষেত্রে। না হয় আবারো যানজটের নাকালে থাকবে বাঁশখালীবাসী।
সড়কের সংস্কার কাজ যথাসময়ে শেষ করলে যানজট নিরসনে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁশখালীর পুকুরিয়া থেকে প্রেম বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কের উপরে ৮ থেকে১০টি বাজার বসায় প্রতিনিয়ত যানজট এবং দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। বর্তমানে কালীপুর সহ উত্তরের অংশ কিছু কাজ শেষ উপজেলা সদর জলদীতে ও নাপোড়ায় কাজ চলমান। এখানের স্থানীয়দের বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সরকার যে উদেশ্যে প্রধান সড়ক সম্প্রসারণ করছে তাতে যদি অবৈধ স্থাপনাগুলো জোরালো পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা না হয় তাহলে পূর্বের মত যানজট লেগে থাকবে প্রতিনিয়ত। সড়কের দু'পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি গুলো যেন সড়কসম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম বাঁধা। এসব খুঁটি তুলে ফেলার কথা থাকলেও সওজ কতৃপক্ষের নেই কোন পদক্ষেপ। তাছাড়া খুঁটি সরানো না হলে সড়ক সম্প্রসারণ হবে নামে মাত্র। ধুলাবালিতে অতিষ্ট যাত্রীসাধারণ বলেন, অনন্ত প্রতিদিন ১ থেকে ২ বার যদি পানি ভর্তি ট্রাকে করে পানি দেওয়া হয় তাহলে সড়কের ধুলাবালির প্রকোপ থেকে বাঁশখালীবাসী একটু হলেও স্বস্তি পাবে।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম/রান

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন