নিজস্ব সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে দোকান ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, 'বাঁশখালী ছনুয়া এলাকার ছোট ছনুয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমির পাড়া প্রকাশ (আম্মর বর বাড়ী)র সামনে বিগত ১৬ বছর পূর্ব থেকে স্থানীয় মুজিবুদ্দোল্লার দখলকৃত জায়গায় ৬ টি দোকান নির্মিত করে দোকান ভাড়া দেয়। কিন্তু উক্ত জায়গা পার্শ্ববর্তী রশিদা বেগম নিজের বলে দাবী করলে ২০১৬ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে লিখিত ভাবে সালিশী বিচার হয়। পরবর্তীতে উক্ত সালিশী বিচার পর্যালোচনা করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লিখিতভাবে রশিদা খাতুনকে উক্ত জায়গায় অন্যায়ভাবে দখলে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। উক্ত নির্দেশনা অমান্য করে রশিদা খাতুন আবারো জায়গা ও দোকান গুলো জবর দখল করার চেষ্টা করলে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
মুজিবুদ্দোল্লার গং এর পক্ষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ৩৭৭/২০২০ মামলা দায়ের করেন এবং অপর পক্ষ রশিদা বেগম বাদী হয়ে জি.আর ২৯৯/২০২০, বাঁশখালী থানায় মামলা নং-২৬, ১৮-০৮-২০২০ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে স্থানীয় শাহেদ, মাওঃ জয়নাল,জহিরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন সমাজপতিদের মধ্যস্থতায় বিগত ৭ সেপ্টেম্বর ২০ ইং তারিখে উভয় পক্ষের মামলা লিখিতভাবে ৬ টি স্টাম্পের মাধ্যমে আপোষনামা দেওয়া হয়। এবং পরবর্তীতে একে একে বেশ কয়েকবার স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিলে ২৩ অক্টোবর রশিদা খাতুন উক্ত সালিশী বৈঠকের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নাই বলে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অাদালতে আপোষনামা প্রত্যাহারের আবেদন করে এবং গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে দোকান ভাংচুর করে।
এ দিকে উক্ত দোকান মার্কেট রশিদা খাতুন ও তার ভাড়াটিয়া দা-মা কইস্সা বাহিনীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রাতের অন্ধকারে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট করেন,ঘটনাস্থলে আমার মা বাঁধা দিতে গেলে তারা আমার মাকে বন্ধুক দিয়ে হত্যার চেস্টা মারধর করে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মুজিবুদ্দোল্লার ছেলে রাশেদুল করিম সুমন। তিনি বলেন যে দোকানে হামলা, লুটপাট,ভাংচুর করা হয়েছে সেটা বিগত ১৬ বছর পূব থেকে আর.এস ৭২৩ বিএস ১২৭৬ খতিয়ানের খাস আমাদের দখলীয় জায়গা,এই জায়গাটি আমরা ১৬ বছর থেকে ভোগ দখল করে আসছি।
এটি আমার বাবা ১৬ বছর আগে এখানে ব্যবসা বানিজ্য করার উদ্দেশ্যে এই ৬টি দোকান ঘর নির্মাণ করেছিল। হঠাৎ গত শুক্রবার রশিদা খাতুন রাতে অন্ধকারে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাদের সমস্ত দোকান ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ বিষয়ে আমরা কয়েকবার সামাজিক ও ইউনিয়ন পরিষদের শরণাপন্ন হলে তারা কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে মৌখিক ভাবে আমাদের জায়গা হিসেবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এরপরও রশিদা খাতুন তার স্বামী মোঃ হোসাইন প্রভাব খাটিয়ে তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের দোকান ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও প্রায় বিশ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে।
এ বিষয়ে মুটোফোনে রশিদা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে সে জানান, এই দোকান ঘর আমার নিজের,এটি মুজিবুদ্দোল্লার ছেলে সুমন ভাংচুর করে, এটা তাদের সাজানো নাটক এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও কর্মকাণ্ডের সাথে আমার কোন সম্পৃক্তা নেই। এই দোকান নিজের দাবী করলে ও সে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে কোন অভিযোগ কোথায় দেন নি বলে জানান।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মুটোফোনে জানতে চাইলে সে বলেন, হামলা হয়েছে শুনেছি কে বা কারা করেছে এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ঘটনার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়েছিল শুনেছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বেশ কয়েকবার মুটোফোনে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন