বাঁশখালী জনপদ সত্যপ্রকাশে আপোষহীন

বিজ্ঞাপন দিয়ে সাথে থাকুন

test

ধ্বংসাত্মক ৮ জিনিস থেকে নিজ জিহ্বাকে বাঁচান

মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। তন্মধ্যে জিহ্বা অন্যতম। মানুষ তার যাবতীয় অনুভূতি ও চিন্তাকে এর সাহায্যেই প্রকাশ করে। এই জিহবা মানুষকে সম্মানিত করে, আবার লাঞ্চিত অপদস্থও করে।
একদিন রসূলুল্লাহ (সা.)  বিখ্যাত সাহাবি মুআয ইবনে জাবাল (রা.) কে জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সহযোগী আমল বলে দেওয়ার পর আরো কিছু ভালো আমলের কথা বললেন।
এমনকি তিনি সকল ভালো কাজের মূল, কাণ্ড ও চূড়া সম্পর্কে বলার পর বললেন-

أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمِلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟! قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللهِ! فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ ، قَالَ: كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا ، فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ! وَإِنَّا لَـمُؤَاخَذُوْنَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟! فَقَالَ: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ! وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِيْ النَّارِ عَلَى وُجُوْهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ.

“আমি কি তোমাকে এমন বস্তু সম্পর্কে বলবো যার ওপর এ সবই নির্ভরশীল? আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনি দয়া করে তা বলুন। অতঃপর তিনি নিজ জিহ্বা ধরে বললেন, এটাকে তুমি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমাদেরকে কথার জন্যও কি পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, তোমার কল্যাণ হোক হে মু‘আয! একমাত্র কথার কারণেই বিশেষভাবে সে দিন মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”। (তিরমিযি, ইবনে মাযাহ,বাইহাকী)। 

তাই জিহ্বা যেমনিভাবে আল্লাহর দেয়া নেয়ামত, তেমনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাও। এই নেয়ামতকে আটটি জিনিস থেকে রক্ষা করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ১. মিথ্যা বলা। ২. ওয়াদা ভঙ্গ করা।৩. ঝগড়া করা। ৪. অভিশাপ দেওয়া। ৫. গালি দেওয়া। ৬. আত্ম-অহংকার প্রকাশ করা। ৭. অন্যকে উপহাস করা। ৮.গীবত বা পরনিন্দা করা। সুতরাং, দুনিয়া ও আখিরাত বিধ্বংসি এই আটটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে নিজের জিহ্বাকে সর্বদা রক্ষা করে চলুন।

এখানে গীবত সম্পর্কে কিছু জানা দরকার। গীবত হলো কারো অনুপস্থিতিতে তার কোন দোষের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করা। তা সত্য হলেও গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে। গীবত যিনার তুলনায় ত্রিশ গুণ বড় গুনাহ’র কাজ। অবশ্য কেউ যদি কোন নাম উল্লেখ না করেই কোন দোষের কথা সমালোচনার উদ্দেশ্যে আলোচনা করে, তবে তা গীবত নয়। 

গীবতের জন্য তাড়না অনুভব মনের একটি মারাত্মক অসুস্থতা। এর চিকিৎসার জন্য দুই ধরণের পদ্ধতি বিদ্যমান। একটি তত্ত্বগত এবং অপরটি ব্যবহারিক।তত্বগতভাবে গীবতকারী অনুধাবন করতে পারে সে যদি নিজে গীবতের শিকার হয়, তবে তার কেমন লাগবে ও কেমন অনুভূতি সৃষ্টি হবে? ব্যবহারিকভাবে, গীবতের সাথে জড়িত বিভিন্ন মানসিক অসুস্থতা যেমন, রাগ, হিংসা, গর্ব, অহংকারকে গীবতকারী দমন করে তার গীবতের অভ্যাস পরিহার করার প্রয়াস গ্রহণ করতে পারে।

যেহেতু জিহ্বার এসকল অভ্যাসকে দূর করা খুবই কঠিন, তাই অপ্রয়োজনে কথা বলার চেয়ে চুপ থাকাই এর জন্য উত্তম সমাধান হতে পারে। শুধু প্রয়োজনের জন্যই কথা বলুন এবং শুধু ভালো কথাগুলোই বলুন। যেমন হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
 مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ
“যার আল্লাহ তা‘আলা ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রয়েছে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” (বুখারি, মুসলিম, ইবনে মাযাহ)।

জিহ্বা আপনার আত্মার প্রতিচ্ছবি। আপনি যখন সত্য ও উত্তম কথা বলবেন, আপনার হৃদয় আলোকিত হবে। অন্যদিকে যখনই আপনি মিথ্যা ও নিকৃষ্ট কথায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন, তখনই আপনার হৃদয় কলুষিত হবে। আপনার ঈমানের পূর্ণতা আপনি একটি পূর্ণ ও আলোকিত হৃদয়ের মাধ্যমেই পেতে পারেন। আর এটি অর্জিত হতে পারে জিহ্বার উত্তম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। সুতরাং আপনার জিহ্বাকে রক্ষা করুন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন-
 لاَ يَسْتَقِيْمُ إِيْمَانُ عَبْدٍ حَتَّى يَسْتَقِيْمَ قَلْبُهُ ، وَلاَ يَسْتَقِيْمُ قَلْبُهُ حَتَّى يَسْتَقِيْمَ لِسَانُهُ. 
“কোনো বান্দার ঈমান ঠিক হয় না যতক্ষণ না তার অন্তর ঠিক হয়। তেমনিভাবে কোনো বান্দার অন্তর ঠিক হয় না যতক্ষণ না তার মুখ ঠিক হয়।"

মন আপনার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রক ঠিকই। তবে সে আপনার কোনো না কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সহযোগিতা ছাড়া যে কোনো কাজ সম্পাদন করতে পারে না। সুতরাং আপনার মন যদি আপনাকে কোনো খারাপ কথা বলতে বলে তখন আপনি আপনার জিহ্বার মাধ্যমে তার কোনো সহযোগিতা করবেন না। তখন সে নিজ কাজে ব্যর্থ হবে নিশ্চয় এবং আপনিও গুনাহ কিংবা তার অঘটন থেকে রেহাই পাবেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে গীবত-পরসমালোচনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন||
লেখক-
মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন
শিক্ষাসচিব: বায়তুল ইরফান আদর্শ মাদরাসা। (ভাদালিয়া, পৌরসভা,বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।)



[বাঁশখালী জনপদ২৪.কম'র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। যদি কপি করতে হয় তাহলে অনুমতি নিতে হবে অথবা কন্টেন্টের নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিতে হবে।]

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.