![]() |
কলসি মাথায় পানি আনতে মেটোপথ পাড়ি দিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। |
শিব্বির আহমদ রানাঃ বাঁশখালী পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সুপেয় পানির সংকটে পড়ে শিক্ষার্থীরা পানির তৃষ্ণা মেটাতে না পেরে কখনো কখনো পুকুরের কিংবা জলকদরের দূষিত পানির দিকে হাত বাড়াচ্ছে। এতে নানা পানিবাহীত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিদ্যালয়ে যে নলকূপটি আছে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ সংকট দেখা দেয়। স্কুলের আশে পাশে কোন নলকূপ না থাকায় শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন ৩/৪জন শিক্ষার্থী ২/৩কলস পানি আনতে যায় আধা কিলোমিটার দূরত্বের গ্রামীণ মেটোপথ পাড়ি দিয়ে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) বিদ্যালয়ের মিড'ডে (বিরতীর) সময়ে ৪/৫জন শিক্ষার্থীর একটি দল কলসি নিয়ে পানি আনতে যাওয়ার দৃশ্যটি দেখা যায়। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। স্কুল থেকে প্রায় আধা কি.মি দূরে এক শিক্ষার্থীর পারিবারিক নলকূপ থেকে এভাবে প্রতিদিন পানি আনে শিক্ষার্থীরা। এ কয়েক কলসি পানিতেই সারাদিন কাটিয়ে দেয় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে তীব্র গরমে পানীয়জলের সংকটে শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারা কোন উপায় না দেখে প্রয়োজনের তাগিদে পানি খেতে বাড়ি চলে যায়। তাছাড়া পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা গ্রামের ১নং ওয়ার্ডে হাতেগোনা যে কয়েকটি গভীর নলকূপ আছে, তাও মোটরচালিত। বিদ্যুৎ না থাকলে এ বিপর্যয় আরো চরম আকার ধারণ করে। এমনকি পুরো গ্রামের মানুষরাও জল সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন। এখানে একটা নলকূপ বসাতে প্রায় দেড়/দুইলাখ টাকার খরচ পড়ে। এতো ব্যয়বহুল নলকূপ বসানোর সামর্থ্য এই গরিব এলাকার মানুষের নেই।
ওই স্কুলের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত, বেলাল, রিকু, উর্মি; ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কমরুন্নাহার। ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী হেলাল ও রহিম ওরা প্রায় সময় পানি আনতে যায় বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাছাড়া পানি আনতে বললে ওরা পালিয়ে যায়, অনীহা প্রকাশ করে!
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জোবাইর জসীম জানান, "জলেরএই সমস্যার কথা বার বার জানিয়েছি। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে আমি আবেদন করেছি বাঁশখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে। কিন্তু জানি না কবে আসবে সাধের নলকূপ"।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম'র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। যদি কপি করতে হয় তাহলে অনুমতি নিতে হবে অথবা কন্টেন্টের নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিতে হবে।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম' বাঁশখালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্পদ-সম্ভার, প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও স্থাপত্যশিল্প নিয়ে শেকড় থেকে শিকড়ের অনুসন্ধানে সবসময় সচেতন। বাঁশখালীকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দিতে আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। তাই, আমাদের সাথে থাকুন। সব খবর সবসময় সবার আগে পেতে ফেইসবুক পেইজ-এ লাইক দিন।
আপনার মেইল পাঠাতে:
banshkhalijanaphad24@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন