শিব্বির আহমদ রানাঃ আবহাওয়ার বৈরী পরিবেশকে উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বাঁশখালী উপজেলার পশুর হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। গত কয়েকদিন আগেও স্থানীয় কয়েকটি বাজারে গরু আসতে দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রায়ই সবকটি স্থায়ী-অস্থায়ী বাজারে গরুর উপছে পড়া ভীড় জমেছে। বিকিকিনি শুরু হয়েছে পুরোদমে। লাভের আশায় বেপারিরা আগেভাগেই হাটে নিয়ে এসে গরু-মহিষের পরিচর্যা করছেন। কেউ খাওয়াচ্ছেন খড়, রং লাগাচ্ছেন শিংয়ে আর কেউবা পানিতে ধুয়ে দিচ্ছেন পশুর শরীর। বাঁশখালীর প্রসিদ্ধ গরুর বাজার হিসেবে পরিচিত রামদাশ মুন্সির হাট, চাম্বল বাজার (গজা হাট), ছনুয়া মনুমিয়াজী বাজার, জালিয়াখালী নতুন বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় স্থানীয় ক্রেতার পাশাপাশি শহুরে ক্রেতারও সমাগম হয়েছে। গরু বিক্রেতারা আশা করছে গতবারের চেয়ে তারা চড়া দাম পাবে এ বছর।
উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গড়ে উঠেছে কোরবানীর পশুর বাজার। খামারী ও সৃজনাল গরু মোটাতাজাকারীদের ভীড়ে জমে উঠেছে বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া মনুমিয়াজির বাজার, প্রেমবাজার, চাম্বল বাজার (গজাহাট), বড়ঘোনা সকাল বাজার, গন্ডামারা বাজার, শিলকুপ টাইমবাজার, জলদী মিয়ার বাজার, জালিয়াখালী নতুন বাজার, সরল বাজার, গুনাগরি রামদাশ মুন্সির হাট, বশিরুল্লাহ মিয়াজি বাজার, মোশারফ আলী মিয়ার বাজার, রায়ছটা সেন্টার পুকুর পাড়, প্রেমাশিয়া চৌধুরীর হাট, বানীগ্রাম নোয়া বাজার, পুকুরিয়া মনসা হাট, পুকুরিয়া চৌমুহনী মুনায়েম শাহ বাজার সহ ২৫-৩০ টির অধিক ছোট বড় কোরবানীর পশুর বাজার।
কোরবানীর পশুর হাটে গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষের ভীড়ও দেখা যায় বেশ কয়েকটি বাজারে। টাইমবাজারে গত বৃহস্পতিবার ৩০টি ছাগল ও ২০টির অধিক গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান ইজারাদার মুহাম্মদ বেলাল সিকদার। জালিয়াখালী বাজারে ২শতের অধিক গরু, ৫০টির অধিক ছাগল, ২০টি মহিষ বিক্রি হয়েছে বলে জানান বাজারের ইজারাদার মোঃ আব্দুর রহিম। বাঁশখালীর বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানীর পশুর ভীড় ছিল দেখার মতো। কোরবানের দিন যতো ঘনিয়ে আসবে বিক্রি তত বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাজার পরিচালনায় সংশ্লীষ্টরা। এবারের ঈদুল আজহায় বাঁশখালীতে বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট বড় ২৫-৩০টির অধিক কোরবানীর পশুর বাজার বসেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গরু বিক্রয় করতে আসা শিলকুপের নাছির উদ্দীন জানান, বাজারে আসা সবচেয়ে বড় গরুটির মূল্য হাকা হয়েছে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা। তিনি গরুটি গত বছর ক্রয় করেছেন ষাট হাজার টাকায়। দীর্ঘ এক বছর পরিচর্যা করার পর তিনি গরুটি বিক্রি করতে বাজারে এনেছেন। কালীপুর এলাকার এক খামারী নুরুল আবছার একটি গরুর দাম দিয়েছেন ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা তিনি ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন। রামদাশ মুন্সির হাটের ইজারাদার ফরহাদ বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ভারত, মিয়ানমার ও দেশের উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, বগুড়া, কুষ্টিয়া এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের করিডোর এলাকার গরু কম, আর দেশীয় গরু বেশি। অনেকে গরুর অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো গরু কিনছে না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল আজিম জানিয়েছেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাবে বাঁশখালীর কোরবানীর পশু। বিগত বছরের তুলনায় বাঁশখালীতে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ এবার রেকর্ড সংখ্যক হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের ৪ জন চিকিৎসক উপজেলার স্থায়ী বাজার রামাদাশ মুন্সীর হাট ও চামম্বল গজারটা সহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখাশুনা করছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন গরুর বাজারগুলোতে পযার্প্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদে পশু বেচা-কেনা করতে পারবেন। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক বাজারে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ টিম কাজ করছে। নকল টাকা প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম'র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। যদি কপি করতে হয় তাহলে অনুমতি নিতে হবে অথবা কন্টেন্টের নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিতে হবে।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম' বাঁশখালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্পদ-সম্ভার, প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও স্থাপত্যশিল্প নিয়ে শেকড় থেকে শিকড়ের অনুসন্ধানে সবসময় সচেতন। বাঁশখালীকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দিতে আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। তাই, আমাদের সাথে থাকুন। সব খবর সবসময় সবার আগে পেতে ফেইসবুক পেইজ-এ লাইক দিন।
আপনার মেইল পাঠাতে:
banshkhalijanaphad24@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন