প্রেসবিজ্ঞপ্তি:
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. আবদুল কাদের চৌধুরীর ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শুক্রবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী মাধ্যমে দিনটি পালন করা হবে।
ঐদিন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ভোর সকাল ৬ টায় কোরআনখানি, সকাল ১০ টায় মরহুমের কবরস্থানে পুস্পস্তর্বক অপর্ণ, বাদে জুমা পশ্চিম সাধনপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নোয়াজিস চৌধুরী জামে মসজিদ ও দিঘির পাড়া জামে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত, বিকাল ৩ টায় পশ্চিম সাধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের স্মরণে আলোচনা সভা ও স্মৃতি স্মারক প্রকাশসহ রাত ৭ টায় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মরহুমের সহকমীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।
মরহুম কাদের চৌধুরী ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৪৯ ইংরেজি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাধনপুর গ্রামে জন্ম। তার পিতার নাম মরহুম হাজী সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী ও মাতার নাম সলিমা বেগম চৌধুরী। তিনি পরিবারের সকলের ছোট, সকলের আদরে দূরন্তপনা ছেলে হিসেবে বড় হন। গ্রামের বাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি হয়। মাধ্যমিক স্তরে তার বড় ভাই বিশিষ্ঠ জুয়েলার্স মরহুম মো. আবদুস ছাত্তার চৌধুরীর তত্বাবধানে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন।
পরবর্তীতে বাঁশখালী উপজেলার সুপরিচিত বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক সাটিফিকেট পরীক্ষায় উক্তীর্ণ হন। মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যান্য ছেলের মত তিনিও নন্দ দুলালের মত নিয়মিত উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু বিপন্ন মানবতার সমাজের অমান্য ভেদনীতি ইত্যকার যুগযন্ত্রণায় আবর্তে দুরূহ অস্থিরতায় তাকে গ্রাস করে। তাই তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য সরাসরি কলেজে ভর্তি না হয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজ (নৈশ) বিভাগে ভর্তি হন এবং স্মাতক ডিগ্রী পর্যন্ত লাভ করেন। পাকিস্তানের শেষার্ধে গণ-আন্দোলনের উত্তর তরঙ্গে সংগ্রামের ডাকে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অধিনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৈন্যদশা তাকে বিচলিত করে তোলে। জীবনে ১৯৭০ সাল হতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বিপন্ন শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। পরিবেশগত ভাবে কিশোর জীবনে সাম্যের ভাব ধারায় গঠিত জীবন পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে পরিচয় হলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তিনি জড়িয়ে পড়ে। আমরণ তিনি জাতীয়তাবাদী দল রাজনীতিতে বিশ্বাসী থেকে জনহিতকর কাজ করে গেছেন।
তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-১৯০১) এর প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল-চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি, উত্তর-দক্ষিণ-মহানগর বিএনপির অন্যতম দাতা সদস্য, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহদ্দারহাট বজ্রকন্ঠ ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতিসহ বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন "সাধনপুর ফুটন্ত গোলাপের অন্যতম পৃষ্টপোষক ছিলেন।
তিনি বিগত ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ ইংরেজি সকাল ১০ টায় বহদ্দারহাটস্থ পাউবো কলোনী বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে মরহুমের স্মরণে গৃহীত কর্মসূচী সফল ও সুন্দর করার লক্ষে সংশ্লিষ্ঠ সকলদের উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক স্মরণসভা পরিষদের সদস্য সচিব, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. শাহাজাহান চৌধুরী ও সমন্বয়কারী মুহাম্মদ জসীম চৌধুরী।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম'র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। যদি কপি করতে হয় তাহলে অনুমতি নিতে হবে অথবা কন্টেন্টের নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিতে হবে।
বাঁশখালীজনপদ২৪.কম' বাঁশখালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্পদ-সম্ভার, প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও স্থাপত্যশিল্প নিয়ে শেকড় থেকে শিকড়ের অনুসন্ধানে সবসময় সচেতন। বাঁশখালীকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দিতে আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। তাই, আমাদের সাথে থাকুন। সব খবর সবসময় সবার আগে পেতে ফেইসবুক পেইজ-এ লাইক দিন।
আপনার মেইল পাঠাতে:
banshkhalijanaphad24@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন