বাঁশখালী জনপদ সত্যপ্রকাশে আপোষহীন

বিজ্ঞাপন দিয়ে সাথে থাকুন

test

বাঁশখালীতে করোনা যুদ্ধে আবু বকর এক মানবিক ডাক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পৃথিবীতে নিজেকে প্রকাশ করা ও জীবনে বেঁচে থাকার অনেক পেশা আছে। সবচেয়ে মহান পেশা, উৎকৃষ্ট পেশা, চিকিৎসাসেবা। এই পেশায় মানুষের কাছে যাওয়া, তাদের সেবা করার সুযোগ আছে। করোনার মতো এই চরম দুঃসময়ে বসে নেই মানবতার পরম বন্ধু, যারা সেবাকে মানবধর্ম হিসেবে নিয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা আতংকে সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার জগতে পাড়ি দিলেন বেশকয়েকজন চিকিৎসক ও মানববন্ধু। 

শত অভিযোগ ও হতাশার মধ্যেও করোনার মতো দুঃসময়ে নীরবে কাজ করে যাওয়া সাদা মনের মানুষদের জন্যেই হয়তো চিকিৎসকের মহান পেশার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা বাড়াতে কিছু মানবিক ও সাহসী চিকিৎসক এগিয়ে রয়েছেন। এসকল চিকিৎসককে করোনার যুদ্ধের অগ্রভাগের সৈনিক হিসেবেও খেতাব দেয়া যায়। তেমনই একজন সাদা মনের মানুষ বাঁশখালী জলদি আধুনিক হাসপাতাল লিঃ এর মেডিসিন, মা-শিশু রোগে অভিজ্ঞ ওই মেডিকেলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। তিনি ২০১৬ সালে জলদী আধুনিক হাসপাতালে আসার পর থেকে আজবধি সুনামের সাথে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি বাঁশখালীতে একজন রোগীবান্ধব ডাক্তারের সুনাম কুড়িয়েছেন। অসহায়, গরীব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন যত্নের সাথে। রোগীদের সাথে পরম মমতার বুলি দিয়ে, সাহস যোগানোর মতো আচরণ দিয়ে মানবিক ডাক্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অফিস সময়ের বাহিরেও তিনি রাত-বিরাতে দিয়ে যাচ্ছেন টেলিমেডিসিন সেবা।

করোনার এ দুঃসময়ে থেমে নেই তার স্ত্রীও। মা-শিশু, গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুন নাহার (মুন্নি) জলদী আধুনিক হাসপাতালে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ীতে দু'বছরের বাচ্চাকে রেখে এ দুঃসময়ে সস্ত্রীক সেবাপ্রদান করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডাক্তার আবু বকর দম্পতি।

ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, 'জাতীর এ দুঃসময়ে মানবসেবা করতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে আমি মনে করি। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেই সর্ব্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে রোগীদের সেবা দিয়ে পাশে থাকতে চাই। করোনার এ পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী সহ আমি ইনডোর-আউটডোরে রোগী দেখছি। অন্তত ঋতুভিত্তিক নানা ফ্লুতে রোগীরা অসুস্থ হতে পারেন, সেটা স্বাভাবিক। তাই অত্র হাসপাতালে খোলা হয়েছে বিশেষ ফ্লু কর্ণার। নিয়মিত সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।'

জলদী আধুনিক হাসপাতালের এমডি এস.এম সোয়াইবুর রহমান বলেন, 'ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিক আসলেই একজন ভালো মানুষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সাহসী, সুন্দর মনের মানুষ। তাছাড়া তিনি ধার্মিক ব্যক্তি ও রোগীবান্ধব চিকিৎসক। তিনি করোনা পরিস্থিতেও সাহসীকতার সাথে রোগীদের ইনডোর, আউটডোরে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার সাহসী সেবাকর্মে আমাদের হাসপাতালের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন তিনি।'

ডা. মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এর গ্রামের বাড়ি বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর এলাকা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তিনি হালিশহর বেগমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি এবং চট্টগ্রামের বেপজা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিজিসিট্রাস্টে। সেখান থেকে কৃতীত্বের সঙ্গে এমবিবিএস পাসের পর তিনি ঢাকা বারডেম থেকে সিসিডি কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে এমআরসিপি (মেডিসিন) পার্ট-১ Uk এর জন্য অধ্যায়নরত। ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর উপর কোর্স সম্পন্ন করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.